Thursday, October 21, 2021

Close

Home Dm Special আরো একটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র আসছে: প্রধানমন্ত্রী

আরো একটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র আসছে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান করতে চায় সরকার। বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) সকালে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, গবেষক এবং বিজ্ঞানশিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ’, এনএসটি ফেলোশিপ এবং গবেষণা-অনুদান প্রদান অনুষ্ঠান প্রদান অনুষ্ঠানে এক কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকার প্রধান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মান কাজ শুরু করেছি। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখানে প্রায় ২৪০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রথমটা করা হয়েছে রুপপুরে। ‘এটা দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষিত একটি প্রকল্প। এর পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের চিন্তা ভাবনা আছে। এবং সেখানে আমরা জায়গাও দেখছি, জায়গা খুঁজছি। ওই অঞ্চলটা আমরা আরো উন্নত করতে চাই।’ ২০১৫ সালে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সাথে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানে চুক্তি করে বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশন। পাবনার রূপপুরে এক লাখ এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান হচ্ছে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটির নির্মান শেষ হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৩ আর দ্বিতীয়টি থেকে ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ মিলবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে দেশে হাইড্রোজেন শক্তি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, জাতীয় জিন ব্যাংক স্থাপনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে, আমরা দেশের সকল বিভাগীয় শহরে নভো থিয়েটার করে দেবো। ‘ঢাকায় করা হয়েছে পরবর্তীতে আটটি বিভাগ রয়েছে সব বিভাগে একটি করে নভো থিয়েটার করবো। যাতে আমাদের শিশু থেকে শুরু করে সকলেই আমাদের বিজ্ঞাণের বিষয়গুলো দেখতে পারে জানতে পারে।’ গবেষণায় জোর প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞাণ ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ছাড়া কোনো জাতি সামনে এগুতে পারে না বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এরজন্য সরকারে এসে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গবেষণার জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ করি।’ তিনি বলেন, ‘এই গবেষণার ফলে আপনারা জানেন, যে আমাদের খাদ্য উৎপাদন কিন্তু আমরা বৃদ্ধি করতে পেরেছি। লবনাক্ত সহিষ্ণু ধান আমাদের গবেষণকরা উদ্ভাবন করেছেন। খরা সহিষ্ণু ধান সেটাও উদ্ভাবনের পথে। এখন জলমগ্ন ধান যাতে উৎপাদন করা যায় সে গবেষণা চলছে। ‘এখন তো অনেক বিদেশি তরি তরকারি ফল আমাদের দেশে উৎপাদন হচ্ছে। এ সবই কিন্তু বিজ্ঞানের অবদান, গবেষণার অবদান। এখন স্ট্রবেরি ঘরে বসে খাওয়া যায়। আগে বিদেশ থেকে আনতে গেলে নষ্ট হয়ে যেতো। আর এখন আমাদের দেশেই উৎপাদন হয়। এটা মাত্র একটা দৃষ্টান্ত দিলাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এছাড়াও এখন তো আমাদের দেশে সব কিছুই হচ্ছে। কমলালেবুর প্রসার ঘটেছে। মাল্টা থেকে শুরু করে সব কিছুই হচ্ছে। যেটা জাতির পিতা বলে গিয়েছিলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে যখন জাতির পিতা দায়িত্ব নেন একজন সাংবাদিক জিজ্ঞেষ করেছিলেন, এরকম একটা বিধ্বস্ত দেশ , কোন সম্পদ নেই, কিভাবে গড়ে তুলবেন। ‘জাতির পিতা বলেছিলেন, আমার মানুষ আছে, মাটি আছে। সেই মানুষকেই তিনি দক্ষ করে গড়তে চেয়েছিলেন। আমরা মনে করি এটা আমাদের দায়িত্ব। আমরা এই মাটি ও মানুষ নিয়েই আজকের বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি। আমরা ভবিষ্যতে উন্নত দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবো।’

গবেষকদের মানব কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এটুকু মনে রাখবেন যে, এই যে ফেলোশিপ দিচ্ছি বা অর্থ বরাদ্দ করেছি এটা কিন্তু জনগনেরই অর্থ। কাজেই জনগনের কল্যানেই যেন লাগে সে দিকটাকে দৃষ্টি দিয়ে আপনাদের গবেষণাকাজ চালিয়ে যাবেন এটা আমরা চাই।’ গবেষণার মধ্য ইয়ে রপ্তানিতে বহুমুখী করণের তাগিদ দেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘গবেষণার মধ্য দিয়ে আমরা ব্যায় কমাতে পারি, উৎপাদনের উৎকর্ষতা বাড়াতে পারি, পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারি। ‘আমাদের রপ্তানি খাতে আমরা শুধু একটা বা দুটোর উপর নির্ভরশীল না বহুমুখী পন্য উৎপাদন করে রপ্তানি করতে পারি। তার মধ্যে আমাদের ডিজিটাল ডিভাইস গুলি। যেহতু আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ কাজেই এ ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন আমরা কিন্তু তা করতে সক্ষম। আমরা তা পারি। আমাদের দেশের অনেক সুযোগ রয়েছে। রপ্তানি পন্য বাড়াতে হলে সেখানেও কিন্তু গবেষণার প্রয়োজন আছে।’ এ অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না দেশের যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে তা কেউ থামাত পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যাক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। আর করোনা ভাইরাস যখন পারে নাই তখন আর কেউ পারবে না, এটাই আমার বিশ্বাষ। ‘আমরা বিশ্বে একটা মর্যাদা পেয়েছি উন্নয়নশীল দেশের। বাংলাদেশকে আর কেউ অবহেলার চোখে দেখতে পারবে না। লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত আমাদের এ স্বাধীনতা, এ স্বাধীনতা ব্যর্থ হতে পারে না। এই স্বাধীনতার সুফল বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে আমরা পৌছে দেবো।’

পঁচাত্তর পরবর্তী সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন কোন দেশে গণতন্ত্র থাকে না, মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতা দখল করে কোনো দেশে, যেহতু তারা ক্ষমতা দখলকারী তারা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে না। ‘তারা ক্ষমতাকে নিস্কন্টক করার জন্য যুব সমাজ, ছাত্র সমাজ সবার উপরে যেমন অত্যাচার করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। কাজেই আমরা দেখেছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি, বোমার আওয়াজ, সেশনজট, মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া, অর্থ তুলে দেয়া, তাদের বিপথে নিয়ে যাওয়া এবং তাদেরকে ব্যবহার করা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
  • Latest
  • Popular

Latest Comments