Wednesday, July 28, 2021

Close

Home Business Trade যে কারণে আর্থিক খাতে ধস

যে কারণে আর্থিক খাতে ধস

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটির লেনদেন আগে থেকেই স্থগিত। বাকি ২২টির মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে তিনটি। তবে সেটি বিতরণ করা যাবে কি না, নিশ্চিত নয় তা। এর কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান যতই মুনাফা করুক, শেয়ার প্রতি দেড় টাকার বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে। যাদের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি, তারা কোনো লভ্যাংশই দিতে পারবে না।

আইডিএলসি শেয়ার প্রতি সাড়ে তিন টাকা, লংকাবাংলা ও আইপিডিসি ফিনান্স এক টাকা ২০ পয়সা করে, আর বিডি ফিনান্স ৬০ পয়সা নগদ আর ৬ শতাংশ বোনাস দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই লভ্যাংশ বিতরণ করা যাবে কি না, এটা এখনও নিশ্চিত নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি উদ্বিগ্ন খোদ বিএসইসি, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন। সিদ্ধান্ত পাল্টানোর অনুরোধ করেছে তারা।

এই অবস্থায় সোমবার দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠক হতে যাচ্ছে বিএসইসি কার্যালয়ে।

বৈঠকের আগের দিন রোববার ২২টি কোম্পানির মধ্যে ১৮টির ব্যাপক মূল্য পতন হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দর হারানো পাঁচটি কোম্পানির মধ্যে তিনটিই এই খাতের যার একটি আবার দেশে আর্থিক খাতের সেরা প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে পরিচিত।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিএসইসির সঙ্গে সমন্বয় করে নেয়ার কথা বলা হয়েছিল ২০১৫ সালে।

কিন্তু এবার লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিএসইসির সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।

এই অবস্থায় সোমবারের বৈঠক নিয়ে তাকিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

রোববার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে বিডি ফিনান্স। এক দিনে সর্বোচ্চ যত টাকা দর হারানো সম্ভব, প্রায় ততই হারিয়েছে প্রতিষ্ঠাননি। আগের দিনের ৩৩ টাকা থেকে দাম কমে হয়েছে ২৯ টাকা ৭০ পয়সা।

বেশ ভালো অংকের দর হারিয়েছে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম সেরা আইডিএলসিও। আগের দিন ৬৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে তা এখন নেমে এসেছে ৬০ টাকা ৭০ পয়সায়।

রোববার আর্থিক খাতের ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে কেবল একটির। দুটি প্রতিষ্ঠান আছে ফ্লোর প্রাইসে। একটির লেনদেন স্থগিত। বাকি সবগুলো দর হারিয়েছে আইপিডিসির দর ২৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৪ টাকা ৭০ পয়সা।

লংকাবাংলা ফিনান্সের শেয়ার প্রতি দর কমেছে ১ টাকা ১০ পয়সা। ৩৬ টাকা ৩০ পয়সার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৫ টাকা ২০ পয়সায়।

রাষ্ট্রায়াত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি এক টাকা ৩০ পয়সা আর ন্যাশনাল হাউজিং ফিনান্স দরও হারিয়েছে এক টাকা।

যে দুটি প্রতিষ্ঠান (ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ও উত্তরা ফিনান্স) দর ধরে রাখতে পেরেছে, সেগুলো আছে ফ্লোর প্রাইসে। এদের দর এর চেয়ে কমা সম্ভব নয়।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ক্যাটিপাল লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিব ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিয়ন্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেবার জন্য যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্ত এই সিদ্ধান্ত যেহেতু সরাসরি পুঁজিবাজারে প্রভাব ফেলেছে তাই বিএসইসির সঙ্গে অবশ্যই আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল। এর কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রভাব পড়েছে।‘

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বরাবরই ভালো লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। তারপরও কেন এসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম?

এই নির্বাহী বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা এখন ডে ট্রেডিং বা শেয়ার কিনে বিক্রয়যোগ্য হওয়ার সময়ই মুনাফা নিতে চায়। ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে তা হয় না। ফলে এখানে আগ্রহ কম থাকে। এ সুযোগটি নিচ্ছে লো পেইড কোম্পানিগুলো। ফলে এগুলোর দরও বাড়ছে।’

সোমবার সকাল ১২টায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিএসইসিতে বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা।

সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গর্ভনর সহ দুই জন নির্বাহী পরিচালক থাকবেন। বিএসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।

বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ‘সমসাময়িক বিষয়গুলো আলোচনা হবে।’

সম্প্রতি সমন্বয়হীনতার যে বিষয়টি আলোচনা আসছে সেটি নিয়ে কথা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি পাশ কাটিয়ে বলেন, ‘যে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
  • Latest
  • Popular

Latest Comments